সোমবার, ১৩ Jul ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ন
ঠাকুরগাঁওয়ে জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশায় ঢাকা চারদিক, সেই সাথে হিমেল হাওয়া। গত একসপ্তাহ থেকে সারাদিনে কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও বেশির ভাগ সময়ই কুয়াশায় ঢাকা রয়েছে সারা জেলা। শীতের তীব্রতা প্রকট হওয়ার কারণে বেড়েছে শীতজনিত রোগ। হাসপাতালগুলোতে জায়গা হচ্ছেনা শিশুর।
হিমেল হাওয়া আর কনকনে ঠান্ডায় বেড়েছে শীতজনিত রোগ। শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া,জ্বর ,ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশু ও বয়স্করা ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালগুলোতে। চিকিৎসকরাও সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বিরামহীনভাবে। গত ৭ দিনে শীতজনিত রোগে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ২৫ শয্যার বিপরিতে ভর্তি হয়েছে ১৫০ থেকে ১৯৪ জন শিশু।
অন্যদিকে অসহনীয় ঠান্ডায় সীমাহীন দূর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবি-হত দরিদ্র ছিন্নমুল মানুষ। সরকারি সহায়তা না পেয়ে বাধ্য হয়ে খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন অনেকেই। নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে খুব একটা বের হচ্ছেন না ।
পঞ্চগড় জেলার বোদা মাড়েয়া ইউনিয়নের রেজিনা বেগম জানান, প্রচন্ড শীতে তার ছয়মাসের শিশু সন্তানের নিউমোনিয়া ও পাতলা পায়খানা হয়েছে। তাই তিনি সন্তানকে নিয়ে গত চারদিন থেকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলেছেন সন্তানের সুস্থ হতে আরো দুই তিন দিন সময় লাগতে পারে।
সদর উপজেলা বড় খোঁচাবাড়ি এলাকার সাজু ইসলাম জানান, তার শিশুর হঠাৎ করে বমি, সর্দি ও সাথে পাতলা পায়খানা শুরু হয়। এরপর শিশুকে হাসপাতালে তিনি গত দুই দিন ধরে আছেন। কিন্তু হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা অনেক। তিনি শয্যা (বিছানা) না পেয়ে অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে মেঝেতে রয়েছেন । তার মতো আরো অনেকেই হাসপাতালের ফ্লোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শাহ জাহান নেওয়াজ জানান, অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে হাসপাতালে শিশু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সকল রোগীদের সাধ্যমতো চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলে রোগীর সংখ্যাও কমে আসবে।
এদিকে জেলা প্রশাসন বলছে, শীত মোকাবেলায় সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। দরিদ্র ও চাহিদা সম্পন্ন মানুষের মাঝে কম্বল সহ শীতবস্ত্র বিতরণ চলমান রয়েছে বলে জানান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো: সামসুজ্জামান।